পার্বত্য চট্টগ্রামে টেলিকম টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত চার টেলিকম কর্মী গত এপ্রিল মাস থেকে অপহৃত হলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত তাদের উদ্ধার ও পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাইভেট টেলিকমিনিউকেশন কর্মচারী ইউনিয়ন।
সোমবার (২৮ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রাকিব বলেন, “গত দুই মাসে চারজন টেলিকম শ্রমিক অপহরণ হয়েছেন, কিন্তু কেউই আজ পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। কোম্পানিগুলো বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। প্রশাসনের ভূমিকা একেবারেই নিষ্ক্রিয়।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম অপহরণ ঘটে গত ১৯ এপ্রিল, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ময়ুরখালী এলাকায়। রবি আজিয়াটার টাওয়ার রক্ষণাবেক্ষণে কর্মরত ইডটকো বাংলাদেশ ও সার্বস কমিউনিকেশন লিমিটেডের অধীনে নিয়োজিত মো. ইসমাইল মিয়া ও আবে মারমা নামের দুই শ্রমিককে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে।
পরদিন অপহরণকারীরা ইসমাইলের বাবার ফোনে যোগাযোগ করে রবি ও ইডটকো অফিসের সঙ্গে কথা বলতে বলে। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ।
দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে ৫ জুন, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থানার লেলাং ইউনিয়নের কর্ণফুলী বাজার এলাকায়। রবি টাওয়ারে কাজ করার সময় অপহৃত হন সার্বস কমিউনিকেশনের দুই কর্মী—মোহাম্মদ সুমন ইসলাম (৩২) ও আব্দুর রহিম (৩৬)। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ম্যানেজার সোহেব সুমনের বাবাকে জানানো হয়, তার ছেলে নিখোঁজ।
টেলিকম ইউনিয়নের দাবি, এসব ঘটনায় স্থানীয় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর অভিযান চালায়নি। বরং অপহরণের দায় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট টাওয়ার পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো।
সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে টাওয়ার পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলে আসছে। অতীতেও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে মীমাংসা করা হয়েছে। তবে এবার কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এ দাবিগুলো হচ্ছে- অপহৃত চার টেলিকম কর্মীকে অবিলম্বে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধারের জন্য রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, অপহরণকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা, পার্বত্য এলাকায় কর্মরত সব টেলিকম শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টাওয়ার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা ও নজরদারি বৃদ্ধি ও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ও আন্তরিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে মানিকছড়ি থানার এসআই এসএম সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, অঞ্চলটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধার অভিযান জটিল। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
-পার্বত্য সময়


