পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান আয়কর অব্যাহতি বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা।

অর্থ বিল ২০২৬-এ প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কিছু আয়কে করের আওতায় আনার উদ্যোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে চিঠি দিয়েছেন।

রোববার (২১ জুন) পাঠানো ওই চিঠিতে সংসদ সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অর্থ বিল ২০২৬ অনুযায়ী আগামী জুলাই থেকে রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বেতন-ভাতা এবং আর্থিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয় করযোগ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান, বান্দরবানের সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা।

সংসদ সদস্যরা উল্লেখ করেন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য কর অব্যাহতির সুবিধা ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ থেকে চালু রয়েছে এবং ২০২৩ সালের আয়কর আইনেও তা বহাল রাখা হয়। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে এ সুবিধা কার্যকর রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য অঞ্চলের অধিকাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এখনো জুম চাষ ও কৃষিনির্ভর জীবিকায় যুক্ত। পাশাপাশি নিরাপদ পানীয় জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে অঞ্চলটি এখনো উন্নয়ন চ্যালেঞ্জে রয়েছে।

সরকারি পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার, যার প্রায় ৬০ শতাংশ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করে।

এ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কর সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন সংসদ সদস্যরা। তাদের মতে, এ উদ্যোগ উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে।