পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত রাখার জন্য দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে—এমন অভিযোগ তুলে স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছে সিএইচটি সমপ্রীতি জোট। সংগঠনের নেতারা বলেছেন, শান্তিচুক্তির নামে পাহাড়ে অশান্তি বাড়ানো হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
রোববার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন সংগঠনের সমন্বয়ক থোয়াইচিং মং শাক। “পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে রক্ষা ও ভারতীয় ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার” আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ ভারতের সহায়তায় চাকমা জাতি পরিচালিত ইউপিডিএফ ও জেএসএস সংগঠনগুলো এই অঞ্চলকে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।”
থোয়াই চিং মং শাক বলেন, “নামে শান্তি চুক্তি হলেও এর মূলে রয়েছে অশান্তি। ২৯ বছর হতে চললেও সন্তু লারমা এই অঞ্চলের জন্য কী করেছেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাহাড়ে বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তার দাবি, “এই এনজিওগুলোর ফান্ড বন্ধ করলে ‘আদিবাসী’ শব্দ উচ্চারণ বন্ধ হয়ে যাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশে পঞ্চাশটি জাতি রয়েছে, কিন্তু আমরা সবাই বাংলাদেশি—কেউ আদিবাসী নয়। তারা শেখ হাসিনার সরকারের শান্তিচুক্তি এবং সন্তু লারমার ভূমিকা কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেন, শেখ হাসিনার চেয়ে বড় ফ্যাসিস্ট সন্তু লারমা।
সম্মেলন থেকে পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন, বিদেশি অর্থায়ন ও প্রভাবিত সংগঠনগুলোর কার্যক্রম দমন, এবং ‘আদিবাসী–উপজাতি–জুম্ম–সেটেলার’ বিভাজনমূলক শব্দ পরিত্যাগ করে জাতীয় পরিচয়ে ঐক্য গঠনের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিএইচটি সমপ্রীতি জোটের মুখ্য সমন্বয়ক পাইশিখই মারমা, সদস্য আইনজীবী পারভেজ তালুকদার, সমন্বয়ক রাকিব হোসাইন নওশাদ, ইখতিয়ার ইমন ও তন্ময় হোসেন নাসির।


