পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যা কিছু করা দরকার, তা করবে- এমন মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বান্দরবানের রাজার মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের “মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব”-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিংভিত্তিক কাজ করছে। আমি চাই এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হোক। উন্নয়ন হওয়া উচিত শিক্ষা ও জীবিকাভিত্তিক। এখানকার মানুষের জীবিকা উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”
উপদেষ্টা আরও বলেন, “বান্দরবানের মানুষ পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে। বারোটি জাতিগোষ্ঠীর এমন সহাবস্থান বিদেশিদেরও মুগ্ধ করেছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমরা চাই, দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আরও বেশি করে বান্দরবানে আসুক এবং এখানকার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগ করুক।”
বর্তমানে পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। “বিদেশি অতিথিরা এসে তা নিজের চোখে দেখেছেন,” বলেন সুপ্রদীপ চাকমা।
নববর্ষকে কেন্দ্র করে বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের পাঁচ দিনব্যাপী “সাংগ্রাই” উৎসবের শেষ দিন ছিল আজ। এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ “মৈত্রী পানি বর্ষণ” অনুষ্ঠানে মারমারা পরস্পরের গায়ে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
উৎসবের আয়োজনে অংশ নেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত এবং ডাচেস আইনবিদসহ বিদেশি অতিথিরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ কুমার মহোত্তম, যুগ্ম সচিব কঙ্কন চাকমা, সেনাবাহিনীর সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল এএসএম মাহমুদুল হাসান, জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছারসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
-পার্বত্য সময়


