বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের ত্বরনীপাড়ার এক জুমঘর থেকে ঢাকার এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম ত্বহা বিন আমিন (২২)। তিনি রাজধানীর ডেমরা থানার মধুবাগ, সাইনবোর্ড এলাকার বাসিন্দা। নিহতের পিতার নাম মোঃ আল আমিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্বহা ১৯ জুলাই বন্ধু সাইফুল ইসলাম তামিম (২২), মীর মাহাদী হাসান নাবিল (২০), মিনহাজুর রহমান সানি (২৫) ও আহমদ উল্লাহ অহিদ মিরাজকে (২০) সঙ্গে নিয়ে পর্যটন ভ্রমণে আলীকদমে আসেন। তারা ওই দিন কুরুকপাতা ইউনিয়নের পোয়ামুহুরী দরিমুখ পাড়ায় ঘোরাফেরা করে রাতে তরনীপাড়ায় একটি ঘরে অবস্থান করেন। পরদিন ২০ জুলাই বিকালে তারা চাল্লেতলী যাওয়ার পথে ত্বরনীপাড়ার পাহাড়ি একটি জুমঘরে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযুক্ত নাবিলের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ২১ জুলাই সকালে ঘর ছাড়ার প্রস্তুতিকালে সে একটি পুরনো একনলা বন্দুক খুঁজে পায়। বন্ধুটি সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে কয়েকবার ট্রিগার চাপলে গুলি না বের হলেও, এক পর্যায়ে বন্দুকটি ত্বহার দিকে তাক করে ট্রিগার চাপলে গুলি বের হয়ে সরাসরি তার ডান বুকে বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ত্বহার। গুলির সময় ত্বহা মোবাইল দিয়ে নাবিলের ছবি তুলছিলেন বলেও জানা গেছে।
এরপর বাকিরা লাশ নিয়ে জুমঘর থেকে নেমে ত্বরনী খাল পেরিয়ে মেম্বারপাড়ার দিকে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রোকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে আলীকদম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের বুকে ডান পাশে একটি গুলির চিহ্ন দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের সঙ্গী চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনাটি ‘দুর্ঘটনাবশত গুলিবর্ষণ’ নাকি ‘উদ্দেশ্যমূলক হত্যাকাণ্ড’ তা নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এছাড়াও জব্দ করা হয়েছে ঘটনার সময় ব্যবহৃত বন্দুকটি। এ ঘটনায় আলীকদম থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।
-পার্বত্য সময়


