কেএনএফ (কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট) সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে পাড়াছাড়া হয়ে দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ভারতের মিজোরামে আশ্রিত থাকার পর অবশেষে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরেছে এক বম পরিবার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় থানচি উপজেলার সীমান্তবর্তী থানচি ইউনিয়নের প্রাতা পাড়ায় তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটে।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ৬ মে কেএনএফ সন্ত্রাসীদের লাগাতার নিপীড়ন ও হুমকির মুখে লাল মুন খুপ বম (৫৫) তার পরিবারের পাঁচ সদস্যসহ পাড়া ছেড়ে মিজোরামে পালিয়ে যান। তিন বছর পাঁচ মাস পর, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর রাঙামাটি হয়ে তারা বান্দরবানে ফিরে আসেন। পরে সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছান তারা।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিবারটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাদের জন্য পরিবেশন করা হয় খাবার, দেওয়া হয় চিকিৎসা সহায়তা, শুকনো রসদ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

নিজ গ্রামে ফিরে আবেগাপ্লুত লাল মুন খুপ বম বলেন, “২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে কেএনএফ সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে আমরা পাড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলাম। শুনেছি সেনাবাহিনীর সহায়তায় অনেকে ফিরে এসেছে—তাই আমরাও সাহস করে ফিরেছি। এখন শান্তিতে নিজের ঘরে ফিরতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি।”

বাকলাই পাড়া সাবজোন কমান্ডার, ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কর্মকর্তা বলেন, “বম জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনে সেনাবাহিনী সবসময় সচেষ্ট ছিল, আছে এবং থাকবে। চিকিৎসা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, স্থানীয় শিশু-কিশোরদের স্কুলে উপস্থিতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে সেনাবাহিনী নিয়মিত কাজ করছে। এই উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আশার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

কেএনএফ নামের এই সশস্ত্র সংগঠন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বান্দরবানের থানচি ও রুমা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ব্যাংক ডাকাতি, হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগে সংগঠনটি আলোচনায় আসে। সেনাবাহিনীর অভিযান ও শান্তি উদ্যোগের ফলে গত এক বছরে সীমান্ত এলাকায় অনেক বম পরিবার পুনর্বাসনের পথে ফিরেছে।