খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার রামসু বাজার এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে প্রদত্ত এই সহায়তার আওতায় নিহত ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় গুইমারা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে জেলা পরিষদের আয়োজনে এই সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলামং মারমা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালীকা ত্রিপুরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মারুফ, জেলা পরিষদ সদস্য কংজপ্রু মারা, সদস্য অ্যাডভোকেট মর্জিনা ঝুমা, গুইমারা থানার ওসি মো. এনামুল হক চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা এবং মারমা ঐক্য পরিষদের সভাপতি অংগ্য মারমা।

জানা যায়, নিহত তিন পরিবারের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে সহ মোট ১৪১ জন আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

তবে বিতরণ তালিকার ‘টাকার পরিমাণ’ অংশটি টেপ দিয়ে ঢেকে রাখা হলে সাংবাদিক ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। কারণ জানতে চাইলে জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলামং মারমা জানান, সবাইকে সমান অর্থ প্রদান করা হয়নি- তাই গোপনীয়তা রক্ষায় এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই ব্যাখ্যায় উপস্থিতিদের অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

প্রধান অতিথি শেফালীকা ত্রিপুরা তার বক্তব্যে বলেন, সহিংসতায় আমরা হারিয়েছি মানুষ, সম্পদ ও সামাজিক শান্তি। জেলা পরিষদ শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে রয়েছে। চিকিৎসা, খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত আছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা ধর্ম-বর্ণ ভুলে একসাথে থাকতে শিখেছি। শান্তি ও উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জেলা পরিষদ সবসময় জনগণের পাশে থাকবে।