খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক শতাধিক বছরের ঐতিহাসিক স্থাপনা মাত্র দুই লাখ ৫৮ হাজার টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। ঐতিহ্য রক্ষার উদ্যোগ না নিয়ে সংস্কৃতির স্মারককে নিলামে তোলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আলোচনায় আসা স্থাপনাটি বর্তমানে ‘রামগড় রেস্ট হাউস’ নামে পরিচিত- ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত রামগড় মহকুমার অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন এটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি জেলা পরিষদ ভবনটি অপসারণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে এবং খাগড়াছড়ি শহরের নুরুল আলম নামের এক দরদাতার কাছে সর্বোচ্চ দর- ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
এই খবরে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বলেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে লেকঘেঁষা মনোরম পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা স্থাপনাটি ইতিহাস-ঐতিহ্যের অংশ। শুধু স্থাপনা নয়, দেশ ও বিদেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির স্মৃতি জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে।
সংবাদমাধ্যম ইত্তেফাকের খবরে বলা হয়েছে- প্রবীণ সাংবাদিক ও সাবেক জেলা তথ্য কর্মকর্তা সুরেশ মোহন ত্রিপুরা বলেন, মহকুমা আমলের সাক্ষী এই রেস্ট হাউস। আশির দশকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে অবস্থান করেছিলেন। ভারতের ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপালসহ অনেক বিশিষ্টজন এসেছেন এখানে।
রামগড় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়াত মোর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, এটি আমাদের গর্ব। ধ্বংস হলে ইতিহাস মুছে যাবে। আমরা তা হতে দেব না।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মংপ্রু চৌধুরীর দাবি, ধ্বংস নয়- এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
রামগড় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জানান, বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল ও সংরক্ষণের দাবিতে তারা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে লিখিত চিঠি দিয়েছেন।
রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, নাগরিক সমাজের ক্ষোভ-অসন্তোষ ঊর্ধ্বতনদের অবহিত করা হয়েছে। গত ১৪ অক্টোবর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনও করেছেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, নাগরিক সমাজের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১৮৬১ সালে চালু হওয়া মহকুমা প্রথা বাংলাদেশে বিলুপ্ত হয় ১৯৮২–৮৩ সালে। ব্রিটিশ আমলে ১৯২০ সালে রামগড় থানাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দ্বিতীয় মহকুমায় উন্নীত করা হয়। এর আগেই ফেনী নদীর কূল ঘেঁষে নির্মিত হয় মহকুমা প্রশাসকের অফিস ও বাসভবন-বর্তমান রামগড় রেস্ট হাউস।
স্থানীয়দের দাবি, অত্যন্ত অল্প টাকায় নিলামে বিক্রি নয়, জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে স্থাপনাটির যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে এখনই।


