বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুরু হয়েছে আগাম সতর্কতা (Early Warning) প্রকল্প, যা বদলে দিচ্ছে দুর্যোগ মোকাবেলার ধরণ এবং কমিয়ে আনছে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি। ইউরোপীয় কমিশনের সহায়তায় ও সেভ দ্য চিলড্রেনের উদ্যোগে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্থানীয় সংস্থা।
নাইক্ষ্যংছড়ি ও লামা উপজেলার অন্তত ৬ হাজার মানুষ এখন আগেভাগেই জানতে পারছেন পাহাড়ধসের সম্ভাব্য ঝুঁকির খবর। কখনও মোবাইল বার্তায়, কখনও মাইকিং বা স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা থেকে প্রচারের মাধ্যমে এই সতর্কতা পৌঁছে যাচ্ছে দুর্গম পাড়ায়। অধিক ঝুঁকিতে থাকা পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে আর্থিক প্রণোদনাও।
সংবাদমাধ্যম এখন টিভির খবরে বলা হয়, স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এই বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে গ্রাম থেকে গ্রামে, ফলে সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারছেন বাসিন্দারা। সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র অফিসার মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, “তিনটি স্বয়ংক্রিয় ওয়েদার স্টেশন স্থাপনের কাজ চলছে। এগুলো চালু হলে আরও নির্ভুল ও দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে।”
নাইক্ষ্যংছড়ির হর্টিকালচার সেন্টারে ইতিমধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় ক্ষুদ্র ওয়েদার স্টেশন বৃষ্টিপাতের তথ্য বিশ্লেষণ করে স্থানীয় কৃষকদের চাষাবাদে আগাম পরামর্শ দিচ্ছে। একই প্রযুক্তি এবার পাহাড়ধস ঝুঁকি শনাক্তে ব্যবহার করা হবে। বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ১৫০-২৫০ মিলিমিটার ছাড়ালেই আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জারি হবে সতর্কতা।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “স্বয়ংক্রিয় ওয়েদার স্টেশন বসানো গেলে পাহাড়ধসে বিপন্ন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।”
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড়ধসে প্রাণ গেছে অন্তত ৩৫০ জনের। নতুন এই প্রকল্প দুর্গম পাহাড়ি জনপদের জন্য হতে পারে জীবনরক্ষার হাতিয়ার।
-পার্বত্য সময়


