বছর শেষে খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় টোকেন বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। পরিবহন, বিভিন্ন পণ্যের পাইকারী পরিবেশকসহ বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ীদের এ টোকেন নবায়ন করতে হয়। এতদিন খাগড়াছড়ির প্রধান বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এ টোকেন বাণিজ্যের আওতামুক্ত থাকলেও গেল বছর থেকে হানা দিয়েছে চাঁদাবাজরা। এ বছর রীতিমতো তালিকা করে চাঁদা আদায়ে বিভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছে একাধিক আঞ্চলিক সংগঠন।
মুঠোফোনে কল দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপস ও সরাসরি টাকা আদায় শুরু হয়েছে গেল কয়েক মাস ধরে। যাদের কাছ থেকে দাবিকৃত চাঁদার অর্থ মিলছে না তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি শহরের ১০১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে একাধিক কুরিয়ার সার্ভিসকে দিয়ে তালিকাভুক্ত ব্যবসায়ীদের পণ্য সেবা না দিতে হুমকি দেয়া হয়েছে। এরকম একটি তালিকাও পাওয়া গেছে। তালিকা পাওয়ার পর একাধিক ব্যবসায়ী ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে এর সত্যতা যাচাই করা হয়।
খাগড়াছড়ি বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী নাম না প্রকাশের অনুরোধে জানান, কয়েক মাস আগে বাজারের অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করা হয়। গ্রাহক ভেবে অনেকে কার্ড প্রদান করেন। কার্ড নিয়ে নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি শুরু হয়। পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের নাম করে তারা চাঁদা চাচ্ছে। যারা টাকা দিচ্ছে না তাদের নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়।
সবশেষ নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে বিছমিল্লাহ ট্রান্সপোর্ট, সুন্দরবন কুরিয়ার, এজেআর ট্রান্সপোর্ট, ফোর স্টার ট্রান্সপোর্টের খাগড়াছড়ি অফিস গুলোতে একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। তালিকায় নাম থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল না নিতে হুমকি দেয়া হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য বুকিং নেয়া বন্ধ রেখেছে ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলো।
এ বিষয়ে কথা হয় একাধিক ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির প্রতিনিধির সাথে। বিষয়টি স্বীকার করেছেন অনেকে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দেয়া হয়নি।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-পার্বত্য সময়


