রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ ও মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যবাসীর হাতে স্থানীয় বাঙালিদের ওপর হামলার দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়ানো হলেও সেটি বাস্তবতা বিকৃত এবং ভিন্ন প্রসঙ্গের। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুরোনো একটি সংঘর্ষের, যা ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বসংক্রান্ত।
গত ২৭ এপ্রিল (রোববার) ‘Mission Impossible’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হয়, “আজ রাঙ্গামাটিতে ইউপিডিএফ ও আরাকান বাসী বাঙালিদের উপর হামলা চালায়, ইউনূসের খেলা শুরু।” একই ধরনের বর্ণনায় আরও অন্তত তিনটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট—Md Hasan Ahmed, Megher Palok ও Sha Alam Sakib—ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকটি নৌকায় করে কিছু যুবক নদীর পাড়ে ভিড়ে এবং সেখান থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। ভিডিওটির উপরের ডান পাশে ‘Pahar 24 Digital’ নামের একটি লোগোও দৃশ্যমান।
ভিডিওটির সূত্র ধরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, এটি ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাঙামাটির রাজবাড়ী এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএস কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা। ঐদিন ইউপিডিএফ একটি মানববন্ধনের ডাক দিলে জেএসএস তা প্রতিহত করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত ৬ ও ৭ আগস্টের প্রতিবেদন।
তবে ভিডিওটি ব্যবহার করে সাম্প্রতিক বাঙালি জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে, যার পক্ষে কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে (২৭ এপ্রিল) প্রকাশিত কোনো রিপোর্ট নেই।
উল্টো, ২৪ এপ্রিল রাঙামাটির সাপছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফের এক শীর্ষ নেতা বাইট্টা ওরফে লেত্তু চাকমা প্রতিপক্ষের গুলিতে আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা দলীয় কোন্দলের দিকেই ইঙ্গিত করে।
অতএব, ২৭ এপ্রিল রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ ও আরাকানিদের বাঙালিদের ওপর হামলা চালানোর যে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, সেটি একটি ভিন্ন সময়ের সংঘর্ষের ভিডিও, এবং বাঙালিদের ওপর হামলার কোনো ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। বিষয়টিকে ভুল তথ্য ছড়িয়ে উসকানি সৃষ্টির অপচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
-পার্বত্য সময়


