শীতের সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার অনেক আগেই তিন জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সব সম্প্রদায়ের ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
রাঙামাটির চারটি উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ফজরের নামাজের পর থেকেই বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা ভোটারদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এবার রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের তিনটি সংসদীয় আসনে অন্তত ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুর্গম পাহাড়ি যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আগেই সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে রাঙামাটির ১৬১টি কেন্দ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই এবং ৩৬টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ অনুপস্থিত থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থায় ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাঙামাটি আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী জানান, দুর্গম এলাকাগুলোতে সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে। বাঘাইছড়ি ও সাজেকের মতো প্রত্যন্ত এলাকাতেও ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
খাগড়াছড়িতে সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের ভিড় দেখা যায়। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১৪৪ জন। ৯ উপজেলায় ২০৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এখানে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম সকালে ভোট দিয়ে ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় নতুন প্রজন্মকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বান্দরবান-৩০০ আসনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জেলার সাত উপজেলার ১৮৭টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে, যা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এই আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৪২ জন। পাহাড়ি ও বাঙালিসহ ১২টি সম্প্রদায়ের বসবাস থাকা এই আসনে ভোটগ্রহণকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।


