ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পেরোনো ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ম্রো জনগোষ্ঠীর কোনো তরুণী হিসেবে ভর্তি হয়েছেন বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি গ্রাম নিশিপাড়ার মেয়ে য়াপাও ম্রো। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো ম্রো সম্প্রদায়ের জন্য এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রেমাক্রি প্রাংসা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত নিশিপাড়া গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা য়াপাওয়ের জীবন ছিল সংগ্রামে ভরা।  জুমচাষনির্ভর জীবনযাপন ও সীমিত শিক্ষার সুযোগের মধ্যেই এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

ম্রো জনগোষ্ঠী সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতির দিক থেকে এখনো পিছিয়ে। এ প্রেক্ষাপটে য়াপাওয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ঘটনা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ম্রো ভাষার গবেষক ইয়াংঙান ম্রো বলেন, “এতদিন আমাদের সমাজে কোনো মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি। য়াপাও সেই অচলায়তন ভেঙেছে। এটি পুরো জাতির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”

চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় য়াপাওয়ের বাবা পারাও ম্রো একজন দরিদ্র জুমচাষি। নিজের শিক্ষার সুযোগ না থাকলেও মেয়েকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বাবার সেই স্বপ্ন আর নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরেই আজকের এই সাফল্য অর্জন করেছেন য়াপাও।

সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই অর্জন পাহাড়ের ম্রো কিশোরীদের জন্য নতুন স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।