দীর্ঘ ৬০ বছর পর রাঙামাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফিশারি সড়ক সংযোগ বাঁধে শুরু হয়েছে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। ১৯৬৪ সালে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত এই বাঁধটি বহু বছর ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় ভাঙন ও ধসের শিকার হচ্ছিল। অবশেষে ২০১৯ সালে সরকার উদ্যোগ নেয় বাঁধটি টেকসই করার, যার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের রাঙামাটি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে “পাহাড় ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পুনর্গঠন ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই বাঁধ সংস্কার কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালে। ২৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পে ৬৬৩ মিটার দৈর্ঘ্যের বাঁধের একপাশে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং মাটি ভরাট করে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যার পেছনে ব্যয় হয়েছে ২৫২ কোটি টাকা।
বর্তমানে প্রকল্পের সৌন্দর্যবর্ধন ধাপ চলছে। এডিপির (এশীয় উন্নয়ন কর্মসূচি) আওতায় ৮৮ লাখ টাকায় বাঁধের সম্প্রসারিত পাশে কিছু মনোরম বিনোদন স্পট তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাঁধটির দুপাশে কাপ্তাই হ্রদের নান্দনিক দৃশ্যের কারণে জায়গাটি পর্যটকদের জন্যও একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদের পর রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি এবং বনরূপা এলাকার মধ্যে সড়ক সংযোগ স্থাপনে ১৯৬৪ সালে নির্মাণ করা হয় এই বাঁধ। কাপ্তাই হ্রদের মাঝে অবস্থিত কয়েকটি দ্বীপকে সংযুক্ত করে সড়কপথে যুক্ত করা হয় শহরের মূল অংশের সঙ্গে। তখন থেকেই বাঁধটি রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগের লাইফলাইন হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় জেলার ১৫১টি সড়ক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় ফিশারি বাঁধের অস্তিত্বও চরম হুমকির মুখে পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে সড়ক বিভাগ বাঁশ ও গাছের খুঁটি দিয়ে আপৎকালীনভাবে রাস্তা সচল রাখে।
পূর্বে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ রক্ষায় বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও প্রকৃতপক্ষে কেউ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেয়নি। শেষমেশ সওজ-ই প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
সওজ-এর রাঙামাটি নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, “বাঁধটি পাহাড় ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের বৃহৎ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সংস্কার করা হচ্ছে। স্থায়ী রিটেইনিং ওয়াল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সম্প্রসারণ কাজের মাধ্যমে বাঁধটি এখন অনেক বেশি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হবে।”
ফিশারি সড়ক সংযোগ বাঁধ রাঙামাটির অর্থনীতি ও যাতায়াতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কার কাজ শেষ হলে যেমন শহরের নিরাপত্তা ও পরিবেশ উন্নত হবে, তেমনি এটি একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট হিসেবেও বিকশিত হতে পারে।

-পার্বত্য সময়