বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ২৮০ নম্বর মৌজায় সরকারি খাস জমি ও সংরক্ষিত বনভূমি দখল এবং নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করে অবাধে গাছ কেটে তা পাচার করা হচ্ছে তামাক পোড়ানোর চুল্লি ও অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলীক্ষ্যং ২৮০ নম্বর মৌজার সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি খাস জমিতে কয়েকদিন ধরে চলমান রয়েছে ব্যাপক গাছ কাটার কার্যক্রম। বনভূমি উজাড় করে কাঠ ট্রাক ও ডাম্পারযোগে প্রকাশ্যে লোকালয়ে আনা হচ্ছে। পরে এসব কাঠ পার্শ্ববর্তী ইটভাটা ও তামাক চুল্লিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ভূমিদস্যু ও কাঠ চোরাকারবারিরা এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাইশারীর কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দিন-রাত সমানতালে পাহাড় কেটে ও গাছ নিধন করে ডাম্পারযোগে কাঠ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বন্যপ্রাণীরা আবাসস্থল হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই পুরো এলাকা বনশূন্য হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০২৫ সালের অভিযুক্ত ভূমিদস্যুদের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালী এই চক্রটি দাপটের সঙ্গে বনভূমি দখল ও বৃক্ষ নিধন অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে পরিবেশবাদীরা বলছেন, সরকারি সম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই বনাঞ্চল পুরোপুরি বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র- দৈনিক সংগ্রাম


