জাতিগত বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারস্পরিক বিশ্বাস, বোঝাপড়া ও ভালোবাসার ওপর জোর দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বলেন, "জাতিগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক না থাকলে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সংহতি নিশ্চিত করা যায় না।"
রোববার (২৭ জুলাই) বিকেলে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পুনর্জাগরণ: জাতি বৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণের সম্ভাবনা ও সংকট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, বাংলাদেশে নানা নেতিবাচক অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যতের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের নতুন করে আশাবাদী করেছে। সেই চেতনায় আমরা বলছি- সমতল থেকে পাহাড়, এবারের মুক্তি সবার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা।
মূল প্রবন্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং বলেন, নিপীড়ন, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় আদিবাসী তরুণরা এবারকার গণঅভ্যুত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। গত বছরের ২ আগস্ট, সরকার পতনের তিন দিন আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদে পাহাড় ও সমতলের তরুণরা একযোগে ব্যানার নিয়ে অংশ নেয়। তাদের উপস্থিতি গোটা সরকারবিরোধী আন্দোলনে এক নতুন গতি এনেছিল।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু পদক্ষেপ আমাদের আশাবাদী করেছে। বিশেষত, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগগুলো, যেমন- পহেলা বৈশাখের চারুকলার শোভাযাত্রায় আদিবাসীদের অন্তর্ভুক্তি, আদিবাসী ব্যান্ড শিল্পীদের আমন্ত্রণ- এসব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদের পথে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার ৫৪ বছরে এখনো সব জনগোষ্ঠীর প্রতি সমান অঙ্গীকার রাখতে পারেনি। এই অসমতা সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাষ্ট্রকে আরও মানবিক, বৈষম্যহীন এবং অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।

-পার্বত্য সময়