বান্দরবানে পাঁচ বছর আগে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (৯ মার্চ) বান্দরবান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জেবুন্নাহার আয়েশা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. রাশেদ (২৩), মো. কায়ছার (২২), মো. ওমর ফারুক (১৮) ও মো. হানিফ (২৪)। তারা সবাই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চার আসামির মধ্যে কায়ছার কারাগারে থাকলেও বাকি তিনজন পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত
২০২১ সালের ২ জানুয়ারি মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভিকটিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে আসামি রাশেদ। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে পরদিন ভিকটিম বান্দরবানে চলে আসেন।
এরপর ৩ নং আসামি ওমর ফারুক ভিকটিমকে জানায়, রাশেদ আসতে দেরি করবে, তাই তার সঙ্গেই পদুয়া বাজারে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে রাশেদের সঙ্গে দেখা হয়। পরে কায়ছার ও হানিফও সেখানে উপস্থিত হয়। পরে তারা সবাই মিলে কাজির বাড়ির উদ্দেশে সিএনজি টেক্সিতে রওনা হয়।
তবে কৌশলে গাড়িটি বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের একটি নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে রাশেদ ও তার সহযোগীরা পালাক্রমে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ভিকটিমের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং তাকে উদ্ধার করেন। 
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ইসমাইল জানান, মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

-পার্বত্য সময়