পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাংলাদেশস্থ কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুননের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন, কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের মানদণ্ড নিশ্চিতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে আইএলও প্রতিনিধি দল জানায়, কানাডা সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রোগ্রেস’ প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে আগ্রহী সংস্থাটি। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো নারী উন্নয়ন, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা প্রদান। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে আইএলও কাজ করতে চায় বলে প্রতিনিধি দল জানায়।

আইএলও প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি জানান, পার্বত্য অঞ্চলে বাস্তবায়নাধীন সব উন্নয়ন প্রকল্প আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিদ্যমান শ্রম আইন অনুসরণ করেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আইএলওসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় দ্রুত ও টেকসই পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় আইএলও প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম এবং যুগ্ম সচিব অতুল সরকার উপস্থিত ছিলেন। আইএলও প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন ‘প্রোগ্রেস’ প্রকল্পের চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার পেড্রো জুনিয়র বেলেন, আইএলও কান্ট্রি অফিসের হেড অব প্রোগ্রাম গুঞ্জন দালাকোটি এবং ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার অ্যালেক্সিয়াস চিছাম।