বান্দরবানে টানা বর্ষণে অভ্যন্তরীণ ও গ্রামীণ সড়কগুলো ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লামা-সূয়ালক সড়কসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ভাঙনের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছে হাজার হাজার মানুষ। কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

বান্দরবানে সড়কে ভাঙ্গন।


শুধু লামা-সূয়ালক সড়কেই পাঁচটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে একটি স্থানে এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সাইকেল চালিয়েও চলাচল সম্ভব নয়। রুমা-মাওয়াপাড়া সড়কে সাতটি, কালাঘাটা-তারাছা সড়কে পাঁচটি এবং কানাপাড়া সড়কে দুটি স্থানে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার শুরুতেই সড়কগুলো ভেঙে গেলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
দৈনিক মানবজমিনের খবরে বলা হয়- টংকাবতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংয়ং ম্রো (প্রদীপ) জানান, লামা-সূয়ালকসহ প্রায় সব গ্রামীণ সড়কেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লামা-সূয়ালক সড়কের দুটি স্থানে বড় ধরনের ভাঙনের কারণে বড় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানান।
লামা উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, লামা-রুপসীপাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন সড়ক। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে লামা বাজার থেকে চেয়ারম্যানপাড়া হয়ে কাটা পাহাড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তাসাউর জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ১২টি সড়কের ৪০ স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি ভাঙন মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং ইতিমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। এছাড়া নতুন ভাঙনের তালিকা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত বরাদ্দ মিললেই সেগুলোও সংস্কার করা হবে।

-পার্বত্য সময়