চট্টগ্রামের রাউজানে বাসচাপায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা সোহেল চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তর চট্টগ্রাম। পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলে বুধবার (৮ অক্টোবর) সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
অবরোধের ফলে সকাল থেকেই চট্টগ্রাম-রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। অক্সিজেন মোড় থেকে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজানগামী সব ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রামের সঙ্গে পার্বত্য জেলাগুলোর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতি কামরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী স্বৈরাচার সরকারের আমলে তিনি দুইবার গুম হয়েছিলেন। এবার মোটরসাইকেলে ফেরার পথে তাকে পেছন থেকে বাসচাপা দেওয়া হয়—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যাকাণ্ড।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রাউজান থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ টালবাহানা করে। তারা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করছে।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাউজান এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। স্থানীয়রা জানান, সোহেল চৌধুরী মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে একে ‘দুর্ঘটনা’ বলা হলেও হেফাজত তা মানতে নারাজ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ঘটনার তদন্ত দাবি করে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার সকাল থেকে হাটহাজারী-রাউজান ও পার্বত্যমুখী সড়কে হেফাজতের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
হেফাজত নেতা মাওলানা সোহেল চৌধুরীর বাড়ি সন্দ্বীপ উপজেলায়। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিবারসহ হাটহাজারীতে বসবাস করছিলেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।


