টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে অচল হয়ে পড়ে খাগড়াছড়ির জীবনযাত্রা। হঠাৎ ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল আর অবিরাম বর্ষণে সড়কজুড়ে জমে কাদা, গাছপালা আর ধসেপড়া পাথরের স্তূপ। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা। রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া, এমনকি স্কুলে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের চলাচলও হয়ে পড়ে দুর্বিষহ।
এমন দুর্যোগে যখন মানুষ অসহায়, তখন সাহস আর সহানুভূতি নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্যরা। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা ও ভুয়াছড়ি এলাকায় তারা নেমে পড়েন স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক পরিষ্কারে। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে দড়ি- পাহাড়ি ঢলের পেছনে রেখে আসা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ধাপে ধাপে উন্মুক্ত করেন যোগাযোগের পথ।
তবে তাদের তৎপরতা শুধু সড়ক পরিষ্কারেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দুর্গত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ, গৃহবন্দী মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছে দেওয়া, বাঁধ কেটে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের পথ খুলে দেওয়া এবং বিকল্প সড়ক তৈরি- সবখানেই তাদের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এমনই এক হিল আনসার সদস্য বলেন, “আমরা পাহাড়ের সন্তান। এখানে যারা কষ্টে আছে, তারা আমাদের প্রতিবেশী, আত্মীয়। দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, এটা আমাদের আবেগ।”
মানবিক এই উদ্যোগ শুধু বাহিনীর পেশাদারিত্ব নয়, বরং তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে ধরা দিয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলেন, প্রশাসনের তৎপরতার আগেই যাদের দেখা গেছে ঘটনাস্থলে, তারা এই হিল আনসার-ভিডিপির সদস্যরাই। অনেক জায়গায় রাতভর কাদা ঘেঁটে সড়ক মেরামত করেছেন তারা, কেউ আবার দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন বৃদ্ধদের ঘরে।
এই সাহসিকতা আর নিষ্ঠার জন্য বাহিনীর মহাপরিচালক নিজেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “প্রকৃতির তাণ্ডবের মুখে দাঁড়িয়েও হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্যরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে দেশের অন্যান্য বাহিনীর জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, যে সব সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন, তাদের উপযুক্ত সম্মাননা ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আনসার ও ভিডিপির এই মানবিক ও দৃঢ় ভূমিকা দুর্গত জনপদে শুধু যান চলাচলই সচল করেনি, ফিরিয়ে এনেছে স্বস্তি, সাহস এবং সামাজিক সংহতির এক উজ্জ্বল বার্তা।

-পার্বত্য সময়