বান্দরবানের বালাঘাটা এলাকায় ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণের জন্য পাহাড় কেটে নির্বিচারে মাটি সংগ্রহ করে জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, এ পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন নব্য যুবদল নেতা ও মাটি ব্যবসায়ী মো. নাজিম উদ্দিন। পাহাড় কেটে মাটি সরবরাহ করে মোটা অঙ্কের লাভের আশায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে দিনদুপুরে এই অপকর্ম।
সদর উপজেলার বালাঘাটা বাকিছড়া, থোয়াইংগ্যাপাড়া ও লেমুঝিরি এলাকায় ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচটি পাহাড় থেকে কয়েক লাখ ঘনফুট মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বালাঘাটা স্বর্ণ মন্দিরসংলগ্ন নির্মাণাধীন জাতীয় গ্রিড সংযোগের ১৩২/৩৩ কেভি উপকেন্দ্রের জমি।
স্থানীয় বাসিন্দা মংপ্রু মারমা, ওসমান ও আবুল কালাম অভিযোগ করেন, নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে যে পাহাড়গুলো কাটা হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে থোয়াইংগ্যাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পাহাড়, মো. ইসলাম ও বদরুন নেছা বেগমের পাহাড়, বাকিছড়ার খায়রুল ইসলামের পাহাড় এবং লেমুঝিরির ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রসংলগ্ন মোজাফরের পাহাড়।
থোয়াইংগ্যাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দন কান্তি দেবনাথ বলেন, “বিদ্যালয়ের পাশেই দিনভর স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। বিশাল মাটিবোঝাই ট্রাকগুলো বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে চলাচল করছে। এতে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে আছে।”
ট্রাক চালক মামুন ও সাইফুল ইসলাম রিমন জানান, তারা প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাকে ৪০-৫০ ট্রিপ মাটি সরাচ্ছেন। বর্তমানে কমপক্ষে ৫টি ট্রাক দিয়ে প্রতিদিনই এ কাজ চলছে। স্কেভেটর চালক জামাল উদ্দিন বলেন, “আমি নাজিম ভাইয়ের হয়ে কাজ করছি। প্রতি ট্রাক মাটির জন্য উনি আমাকে ১৩০ টাকা করে দেন।”
অভিযুক্ত মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, “আমি স্থানীয়দের কাছ থেকে মাটি কিনে নিচ্ছি। পাহাড় কাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।” তবে স্থানীয়দের দাবি, তার এ বক্তব্য প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার জন্য সাজানো। দিনের পর দিন তার নির্দেশনায় স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে, অথচ এখন দায় এড়াতে তিনি পুরো দায় সরিয়ে দিচ্ছেন অজানা উৎসের ওপর।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রেজাউল করিম বলেন, “থোয়াইংগ্যাপাড়ায় পাহাড় কাটার অভিযোগ তদন্ত করে নাজিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।”
বান্দরবান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
পরিবেশবাদীরা বলছেন, পাহাড় কাটা পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরি করে। এতে ভূমিধস, জৈববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব শুধু স্থানীয় জনগণ নয়, সমগ্র অঞ্চলের ওপর পড়বে।

সূত্র- জনকণ্ঠ