পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাঙামাটি শহরের রায় বাহাদুর সড়কের নিজ বাসভবনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। হ্রদ সংলগ্ন পাহাড়ি ঘোনাগুলোতে ছোট ছোট ক্রিকবাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষের মাধ্যমে স্থানীয়দের আর্থিক স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) ইতিমধ্যে হ্রদে মাছ উৎপাদনের কাজ করছে। স্থানীয় উদ্যোগে পাহাড়ি ঘোনাগুলোতে মাছ চাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে মাছ চাষ ছাড়াও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত কর্ণফুলী পেপার মিল, যা বর্তমানে লোকসানের মধ্যে রয়েছে, সেটিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় শিক্ষা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। এর মধ্যে রয়েছে রাঙামাটিতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সম্পন্ন করা, পাহাড়ে উৎপাদিত ফলমূল দিয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও হিমাগার স্থাপন, রাঙামাটির ঘাগড়া টেক্সটাইল মিল চালু করা, বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন সুপ্রদীপ চাকমা। এর মধ্যে রয়েছে কাপ্তাই-বান্দরবান সড়কের কর্ণফুলী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, রাঙামাটি পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, রাঙামাটি-মানিকছড়ি হয়ে খাগড়াছড়ির বাইপাস সড়ক নির্মাণ। এছাড়া রাঙামাটিতে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) স্থাপনা নির্মাণ ও ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
পার্বত্য শান্তিচুক্তির আলোকে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পাহাড়ের উন্নয়নে এই পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য শিগগিরই সরকারের কাছে প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হবে।
সুপ্রদীপ চাকমা পাহাড়ের উন্নয়নে সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আমি দায়িত্ব থাকাকালীনই পাহাড়ের উন্নয়নে এসব মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চাই। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।"
উপদেষ্টার এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-পার্বত্য সময়


