পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় দখল, উচ্ছেদ ও জাতিগত সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনকে জরুরি ভিত্তিতে সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, ভূমি সমস্যার সমাধান ছাড়া পাহাড়ের মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সভার আয়োজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন বলেন, ভূমি কমিশন থাকলেও কার্যত এটি অচল হয়ে আছে। খাগড়াছড়িতে প্রধান কার্যালয় এবং রাঙামাটি ও বান্দরবানে শাখা কার্যালয় থাকলেও জনবল, তহবিল ও পরিসম্পদের অভাবে কমিশন কার্যক্রম চালাতে পারছে না। চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হয়েছে, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় পাহাড়ে বারবার জমি দখল, উচ্ছেদ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া ও সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে জুমচাষিদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। উল্টো বহিরাগতদের বসতি স্থাপন ও জমি ইজারা দেওয়া হচ্ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ভূমি কমিশনের বিধিমালা প্রণয়ন, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ, পর্যাপ্ত জনবল ও বাজেট বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।
সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পাহাড়ের সমস্যার মূল শেকড় ভূমি বিরোধে। এটি সমাধান না হলে জনগণের সংকটও নিরসন হবে না। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী খায়রুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইনের আগে সমতলের বাঙালিরা ছিল কেবল প্রজা, জমির মালিক ছিল না। এখন পাহাড়ের মানুষও একই দুঃখ ভোগ করছে। তারা শুধু নাগরিক হিসেবে সমঅধিকার চায়, এর বাইরে কিছু নয়। সরকার যদি বিষয়টি গুরুত্ব না দেয়, তবে নতুন সংকট তৈরি হবে।
এছাড়া আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা ও অধিকার কর্মী মেইনথিন প্রমীলা প্রমুখ।
-পার্বত্য সময়


