চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘পাঠ্যবই থেকে ‘আদিবাসী’ লেখাযুক্ত গ্রাফিতি মুছে দেয়া ও গ্রাফিতি স্থাপনের দাবির আন্দোলনে হামলা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা জাতিসংঘের রিপোর্টেও উঠে এসেছে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের অধিকার আদায়ে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।’
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাঙ্গামাটি শহরের কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী ও জুম্মস্বার্থ পরিপন্থি সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করুন: পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বৃহত্তর আন্দোলন জোরদার করুন’ স্লোগানে গণসমাবেশ ও আলোচনা সভা করেছে পাহাড়ের প্রথম আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলটি।
ঊষাতন তালুকদার বলেন, “আমরা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কোনো দিন কোথাও বলেনি- বিচ্ছিন্ন হবে। বাংলাদেশ থেকে বাইরে যাবে, এটা কোনো দিন বলেনি। জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের 'অবিচ্ছেদ্য' অংশ; এটা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে।”
সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, “শান্তিচুক্তি করেছি স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে মেনে নিয়ে, এখনও আমরা মানি। ইউটিউব, ফেইসবুকে অনেক লেখা-লেখি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম স্বাধীন হয়ে যাচ্ছে। কত কী লেখা-লেখি হয়। কিন্তু এগুলো জনসংহতি সমিতি লিখে না। এগুলো কিছু আজেবাজে লোক বিভ্রান্ত করার জন্য লিখে; এগুলোর সঙ্গে জনসংহতি সমিতি সংশ্লিষ্ট নয়। এসব ভুল ধারণা থেকে সরকার, সেনাবাহিনী, পুলিশ বেরিয়ে আসবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা রইল।”
এর আগে সকালে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বেলুন উড়িয়ে আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা।
আলোচনা সভা ও গণসমাবেশে জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য গুনেন্দু বিকাশ চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য ও জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা কে এস মং, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য চট্টগ্রামের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি ভবতোষ দেওয়ান, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চঙ্গ্যা প্রমুখ।
-পার্বত্য সময়


