লামা উপজেলার ২৮৫ নম্বর সাংগু মৌজার ম্রো ও মার্মা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের জুমভূমি রক্ষায় এবং বৌদ্ধ ভিক্ষু উ: উইচারা ভিক্ষুর বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগে শনিবার (২৪ মে) মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
সকাল ১০টা থেকে লামা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি এবং ১১টায় মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা অভিযোগ করেন- আলীকদমের ভরিমুখ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উ: উইচারা ভিক্ষু, আলীকদম মৌজার হেডম্যান অংহ্লাচি মার্মাসহ একটি চক্র ম্যারাইনতং পাহাড়ের জুমভূমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ম্রো জুমচাষিদের হয়রানি করছে।
বক্তারা বলেন, “আমরা ম্রোরা জীবিকা নির্বাহ করি জুমচাষ করে। সেই জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা মানে আমাদের অস্তিত্বের ওপর আঘাত। ভান্তে উ: উইচারা ভিক্ষু বানিজ্যিক স্বার্থে ৫০ একরেরও বেশি জমি দখল করে রেখেছেন।”
প্রসঙ্গত, ১৯৯২ সালে উ: উইচারা ভান্তের অনুরোধে ম্যারাইনতং পাহাড়ে ধ্যানকেন্দ্র, বুদ্ধমূর্তি ও জাদী নির্মাণের জন্য সাংগু মৌজা থেকে পাঁচ একর জমি দান করা হয়েছিল। তবে এখন তিনি ওই জমির আশেপাশে আরও প্রায় ৫০ একর জায়গা দখল করেছেন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
বক্তারা আরও জানান, গত ২১ মে ভান্তে পক্ষ পরিকল্পিতভাবে একটি ‘বুদ্ধমূর্তি ভাঙার ঘটনা’ সাজিয়ে ২২ মে আলীকদম থানায় মামলা করেন। এতে সাংগু মৌজার হেডম্যান চংপাত ম্রোসহ ১১ জন ম্রো ও মার্মা সদস্য এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মানববন্ধন থেকে বক্তারা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিংওয়াই ম্রো, মেনসোয়া ম্রো, জনবাহাদুর ত্রিপুরা, অংক্যয় মার্মা কারবারি, মাংদন ম্রো, লাংক্রুং ম্রো, প্রদীপ ম্রো, দীপন ম্রো ও পাক ম্রো।
এর আগে শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় লামা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংগু মৌজার হেডম্যান চংপাত ম্রো অভিযোগ করেন, “উ: উইচারা ভিক্ষুর নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ধর্মের নামে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই, মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে চাই না।”

-পার্বত্য সময়