৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের পর থেকেই ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ভারতীয় মিডিয়া লাগাতার মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। আর এই মিথ্যা খবরকে তুলে ধরে দেশভাগে হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকানি দিচ্ছে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-কেএনএফ।
রোববার (৮ ডিসেম্বর) নিজেদের ফেসবুকে কেএনএফ দাবি করে, বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কুকি-চিন জনগোষ্ঠীর মত সর্বক্ষেত্রে নির্যাতিত ও অত্যাচারিত যা মাত্রা অতিক্রম করেছে। এমতাবস্তায় পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টি ব্যতিরেকে বাংলাদেশের হিন্দু সমস্যার স্থায়ী সমাধানের কোন পথ নেই।
কেএনএফ বলে, বম জনগোষ্ঠীর মত একই কায়দায় সমতলের হিন্দুদেরকেও চাউল কিনতে দিচ্ছে না, তাদের গতিবিধিতে গোয়েন্দা সংস্হাসমূহ সর্বক্ষণ নজরে রাখছে। এটা রাষ্ট্রের বর্বরোচিত আচরণ!
ঢাকার বাসিন্দা সুমিত রায় বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা অনেক সংগঠনের সাথে জড়িত। আজ পর্যন্ত এমন খবর শুনিনি যে হিন্দুদের চাল কিনতে দিচ্ছে না, আলাদা সম্প্রদায় হিসেবে তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে এমন খবরও কোথাও পাইনি। এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। দেশে গোষ্ঠীদ্বন্ধ লাগানোর পাঁয়তারা করছে এরা।
তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই চক্রান্তকারী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানান।
ভারতীয় মিডিয়ার কয়েকটি স্ক্রিনশট শেয়ার করে কেএনএফ'র দাবি, নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টি হলে সম্ভবত চট্টগ্রাম শহরই "পূর্ব-হিন্দুদেশ"-এর রাজধানী হতে হবে। আর, দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর হচ্ছে কক্সবাজার। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র বা রাজ্য সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। মূলতঃ এছাড়া পাহাড়ে রাজনৈতিকভাবে কোনো সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কেএনএফ মূলত হিন্দুদের সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা করছে। ভারতীয় মিডিয়ার হাস্যকর দাবিকে সামনে এনে হিন্দুদের দিয়ে পৃথক রাষ্ট্রের দাবি তুলতে চাইছে, যেন তাদের (কেএনএফ) নিজেদের দাবিকে যৌক্তিক বলে প্রচারণা চালানো যায়।
আন্তর্জাতিক কয়েকটি ফ্যাক্টচেককারী প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের এসব গুজব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
-পার্বত্য সময়


