খাগড়াছড়ি সদরে গণপিটুনিতে বাঙালি শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনার জেরে উপজাতি ও বাঙালি দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটির কথা জানান জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে বলেও জানানো হয়।
বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি বাজার ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) দুপুরে খাগড়াছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক সোহেল রানাকে পিটিয়ে হত্যা করে উপজাতি ছাত্র ও বহিরাগতরা। এ ঘটনার জেরে বিকেল থেকে শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উপজাতি ও বাঙালির মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুট করা হয়।
নিহত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির এক উপজাতি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই শিক্ষক সোহেল রানাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল পাহাড়ি (উপজাতি) ছাত্রছাত্রীরা। বেশ কয়েক বছর আগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে এক পাহাড়ি (উপজাতি) ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা হয়েছিল। ওই ছাত্রী আদালতে এসে সাক্ষ্য দেয় তিনি কোন ধর্ষণের শিকার হননি। পাহাড়ি (উপজাতি) একটি সংগঠনের চাপে মামলা করেছে মর্মে সাক্ষ্য দিলে সোহেল রানা খালাস পান এবং চাকরিতে যোগদান করেন। সোহেল রানা চাকরিতে যোগদানের পর থেকে পাহাড়ি (উপজাতি) ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির নানা অভিযোগ এনে প্রত্যাহার দাবি করে আসছিল। আজ ওই শিক্ষক বিদ্যালয় এলে ধর্ষণের অভিযোগ এনে শিক্ষককে হত্যা করা হয়।
-পার্বত্য সময়


