বান্দরবানের সদর উপজেলার ১২ মাইল চিম্বুক ওয়াই জংশন বাজার এলাকায় এডিবি প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন আরসিসি সড়কে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ঠিকাদার শিফু বড়ুয়ার দিকে, যিনি বালি ছাড়াই কাদা মাটির ওপর নিম্নমানের ও ময়লাযুক্ত স্যালভিশ ইট বিছিয়ে রাস্তার ভিত্তি নির্মাণ করছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার নির্মাণকাজ শুরুর আগে যথাযথভাবে বালু ফিলিং না করেই ইট সলিং শুরু হয়। ব্যবহৃত হচ্ছে পুরনো, ভাঙাচোরা এবং রাবিশ মিশ্রিত স্যালভিশ ইট, যা সড়ক নির্মাণ মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আশঙ্কা করছেন, সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
রাস্তাটির নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, ইট সলিংয়ের আগে বালু না দিয়ে সরাসরি কাদা মাটির ওপর ইট বিছানো হচ্ছে। মাঝি মো. সোনাফ উদ্দিন বলেন, “ঠিকাদার যেভাবে বলছে, আমরা সেভাবেই কাজ করছি। বালু দেয়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দা মেনরাও ও তনসাং ম্রো বলেন, “এই রাস্তায় যেভাবে নিচে বালু ছাড়া ইট বিছানো হচ্ছে, এতে কয়দিন পরই ভেঙে যাবে।” স্থানীয় ব্যবসায়ী আবছার বলেন, “ড্রেন নির্মাণেও ঠিকাদার শিফু বড়ুয়া অনিয়ম করেছিল, এবারও একইভাবে চলছে।”
জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিবি প্রকল্পের আওতায় থানচি সড়ক থেকে দেওয়াই হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে রুমা সড়ক পর্যন্ত ৫০০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি রাস্তা নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছেন ঠিকাদার শিফু বড়ুয়া। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু নির্মাণের শুরু থেকেই মানহীন কাজ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ওয়াই জংশন বাজার কমিটির সভাপতি রেরং ম্রোকে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে ঠিকাদার কাজের অনিয়মে সুবিধা নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার শিফু বড়ুয়া বলেন, “যেসব ইট ব্যবহার করছি, সেগুলো অফিস থেকে স্যালভিশ হিসেবে অনুমোদিত। আমি অফিস থেকে সেগুলো কিনেছি এবং নিয়ম মেনেই কাজ করছি।”
তবে জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী লেলিন চাকমা বলেন, “রাস্তার কাজে নিম্নমানের স্যালভিশ ইট ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে ঠিকাদারকে সেগুলো সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
সূত্র- মানবজমিন


