বান্দরবানের পাহাড়ি ভাঁজে ভাঁজে এখন সোনালি ধানের সমারোহ। ঢালু জমি আর পাহাড়ের পাদদেশে জুম ক্ষেতে চলছে ধান কাটার ধুম। প্রকৃতিনির্ভর এ কৃষি পদ্ধতি পাহাড়ি জীবনের প্রাচীন ঐতিহ্য, যা আজও সমানভাবে জড়িয়ে আছে তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে।

সংবাদমাধ্যম সময়ের আলোর খবরে বলা হয়েছে- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এমএম শাহনেওয়াজ জানান, এ বছর সময়মতো বৃষ্টি ও পর্যাপ্ত রোদ মেলায় জুম ধানের ফলন আশানুরূপ হয়েছে। গত বছর বৃষ্টি দেরিতে আসায় উৎপাদন কম হয়েছিল, তবে এবার তা হবে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভোর থেকেই দল বেঁধে পাহাড়ে উঠছেন জুমচাষিরা। মাথায় থুরুং (বেতের ঝুড়ি), হাতে কাঁচি বা দা নিয়ে ব্যস্ত তারা। পরিবার কিংবা শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে কাটছেন পাকা ধান। প্রতিটি পাহাড়চূড়ায় অস্থায়ী জুমঘরে জমছে ফসল।

জুমচাষি মংক্যপ্রু মারমা বলেন, “বৃষ্টি আর রোদ দুটোই ঠিকমতো মিলেছে। তাই ফলন ভালো হবে।” আরেক চাষি উখ্যাইচিং মারমা জানান, তিনি ২০ বিঘা জমিতে জুম চাষ করেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো।

প্রতিবছরের হিসাব বলছে, জুম আবাদে জমির পরিমাণ কমলেও ফলন ওঠানামা করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০২১ সালে ১৩ হাজার ৪৬৭ টন উৎপাদন হলেও ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৪৮৯ টনে। চলতি মৌসুমে ৭ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৬৬ টন।