প্রকৃতিনির্ভর পার্বত্য চট্টগ্রামে শরৎকালের আগমনে শুরু হয়েছে জুমের পাকা ধান কাটা। ঢালু পাহাড়জুড়ে এখন সোনালি ধানের দোলা। কোথাও সবুজ, কোথাও আবার হলুদাভ সোনালি ধান— চোখ যতদূর যায় শুধু সোনালি ফসলের সমারোহ। এতে খুশির হাসি ফুটেছে জুমিয়াদের মুখে।
চাষিরা বলছেন, এবছর সময়মতো বৃষ্টি হওয়ার কারণে বপন শুরু হয়েছিল আগেভাগে। ফলে ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। অনেক ক্ষেতেই ধান পাকতে শুরু করেছে। কেউ কেউ কেটে নিচ্ছেন, আবার অনেকে অপেক্ষা করছেন আরও কয়েকদিনের জন্য। শিগগিরই তিন পার্বত্য জেলার অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক আকারে ধান কাটার কাজ শুরু হবে।
ধান কাটার আগে জুমচাষিরা ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, মারফা, চিনালসহ বিভিন্ন সাথী ফসল সংগ্রহ করছেন। এতে দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে এখন কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
তবে জেলা শহরগুলোর আশেপাশে জুম আবাদ এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির সংকট ও বাগান চাষের সম্প্রসারণে জুম সীমিত হয়ে এসেছে। এখন মূলত ঐতিহ্য ধরে রাখা ও সাথী ফসলের জন্যই ছোট পরিসরে জুম করা হয়।
স্থানীয় কৃষকরা জানালেন, এবছর আবহাওয়া ছিল অনুকূলে। বৃষ্টির সময় বৃষ্টি আর রোদের সময় রোদ মিলেছে। ফলে আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন তারা। গত বছর অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় ফলন কম হয়েছিল।

জুমচাষের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বরে জমি নির্ধারণ করা হয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে জঙ্গল কেটে ফেলা হয়, মার্চ-এপ্রিলে তা শুকিয়ে পোড়ানো হয়। এরপর এপ্রিল-মেতে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি শুরু হলে ধানসহ প্রায় ৩০–৩৫ ধরনের সাথী ফসল বপন করা হয়। বৈশাখ মাসের প্রথম বৃষ্টির পর যারা বপন করেন তাদের ধান আগে পাকে, দেরিতে বপনকারীদের ধান পরে পাকে। আগস্টের শেষ দিক থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ধান কাটা শুরু হয়, যা চলে অক্টোবর পর্যন্ত। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ঘরে ঘরে পালিত হয় নবান্ন উৎসব।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে জুম আবাদে উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২১ সালে আবাদ হয়েছিল ৮,৩৭৮ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয়েছিল ১৩,৪৬৭ মেট্রিক টন চাল। ২০২২ সালে আবাদ কমে দাঁড়ায় ৮,২৯২ হেক্টরে, উৎপাদনও কমে হয় ১১,৪১৮ মেট্রিক টন। ২০২৩ সালে আবাদ বেড়ে দাঁড়ায় ৮,৫৪০ হেক্টরে, তবে উৎপাদন কমে হয় ১০,৪৮৯ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবাদ হয়েছিল ৮,২৬৭ হেক্টরে, উৎপাদন ছিল ১২,৪৯৯ মেট্রিক টন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবাদ হয়েছে প্রায় ৭,৩০০ হেক্টরে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০,৩৬৬ মেট্রিক টন।
-পার্বত্য সময়


