ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে। খাগড়াছড়ির আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মতবিনিময়কালে তার দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সভাস্থল ত্যাগ করেন জিরুনা।
সোমবার (১০ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সাথে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির নিয়ে সমালোচনা করে পরিষদ গঠনের অনুরোধ জানালে পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
উপদেষ্টা খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান-সদস্যেদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইচ্ছে ও যোগ্যতা থাকলে অনেক কিছু করা যায়। জেলা পরিষদ গঠন হয়েছে প্রায় ৩ মাস অথচ এখনো পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্পের স্কী তৈরী করতে পারেননি। বাকী তিন মাসে কখন টেন্ডার আহবান করবেন,কখন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন এমন প্রশ্ন রাখেন।
তিনি বলেন, জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের কারণে আমরা দায়িত্ব পেয়েছে। সেবার মান জনবান্ধন হওয়া দরকার। তিনি লোক দেখানো কোন কিছু না করার আহবান জানিয়ে বলেন,জনগণের মন জয় করা জরুরি। আমার চিরদিন থাকতে আসেনি। যত তাড়াতাড়ি চলে যেতে পারবো তত গালিগালাজ কম খাবো।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার-এর সভাপতি অনুষ্ঠিত সভায়, পুলিশ সুপার মো: আরেফিন জুয়েল, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এম এন আবছার,যুগ্ন সম্পাদক মোশারফ হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ ভট্টাচার্য,সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্লসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় প্রধান সামরিক -বেসামরিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
আইন-শৃঙ্খলার সভা চলাকালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সভা ছেড়ে চলে গেলে সভাস্থলে নানা গুঞ্জন উঠে। এ সময় অনেককে বলতে শোনা যায়,ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর জিরুনা ত্রিপুরা ফ্যাক্স বার্তায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে এখন এমপি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তাই প্রতিদিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণা বেড়িয়ে গেছেন।

-পার্বত্য সময়