রাঙামাটিতে যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার মিলন নন্দী নান্টুর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন রাঙামাটি রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক পূর্বদেশ-এর সাংবাদিক এম কামাল উদ্দিন। বুধবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাঙামাটি জেলা পরিষদের বাজার ফান্ড অফিসের ভবন সংস্কারে নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ের নিচে ইট-পাথর ও ধ্বংসাবশেষ পড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বলার পরেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাংবাদিক কামাল উদ্দিন ফের নিরাপত্তার দাবি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিলন নন্দী নান্টু নির্মাণকাজে ব্যবহৃত লোহার রড দিয়ে কামালের ওপর হামলা চালান। হামলায় তার ডান চোখের ওপর গুরুতর জখম হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হামলার প্রতিবাদে রাঙামাটি প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটি ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে। দাবি না মানা হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। বিকেলে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার হাসপাতালে কামাল উদ্দিনকে দেখতে যান এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মিলন নন্দী নান্টুকে প্রধান আসামি করে আরও পাঁচ নির্মাণ শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ওসি শাহেদ উদ্দিন জানান, অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তবে অভিযোগ রয়েছে, মিলন নন্দী নান্টু স্থানীয়ভাবে ক্ষমতাধর যুবলীগ নেতা এবং জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী এরশাদ মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ। এরশাদের ছত্রছায়ায় থেকে নান্টু ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। ২২ লাখ টাকার যে সংস্কার কাজ নিয়ে হামলার সূত্রপাত, সেটিও নান্টু এরশাদের সহযোগিতায় পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

-পার্বত্য সময়