খাগড়াছড়ি সদরের গিরিফুল এলাকায় পাঁচ আদিবাসী শিক্ষার্থীর অপহরণের চার দিন পার হলেও কোনো সন্ধান মেলেনি এখনো। ঘটনাটি ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালালেও অপহৃতদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।
অপহৃত পাঁচ শিক্ষার্থীই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা হলেন—রিশন চাকমা, অলড্রিন ত্রিপুরা, মৈত্রিময় চাকমা, দিব্যি চাকমা ও লংঙি ম্রো। বিজু উৎসব শেষে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার সময় কুকিছড়া থেকে একটি অটোরিকশায় খাগড়াছড়ি শহরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গিরিফুল এলাকায় তাদের গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রধারীরা অপহরণ করে। গাড়িচালক পরে ছাড়া পেলেও শিক্ষার্থীরা নিখোঁজ রয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, অপহরণের ঘটনায় মুক্তিপণের কোনো দাবি আসেনি, যা একে সংঘবদ্ধ অপরাধের তুলনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত বলেই সন্দেহ বাড়িয়েছে। প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব থেকেই এই টার্গেট অপহরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, “নিরাপত্তা বাহিনী সম্ভাব্য সব স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে। অপহৃতদের মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংসহ প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।”
শনিবার যৌথ বাহিনী ভাইবোনছড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায়। যদিও কোনো আটক কিংবা উদ্ধার হয়নি।
অপহরণের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন। 'আদিবাসী' শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম থেকে জানানো হয়, প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে চরম অবহেলা দেখাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী জাল্লাং এনরিকো কুবি বলেন, “চার দিন পার হলেও অপহৃতদের মুক্তির জন্য দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এটা আমাদের আতঙ্কিত করেছে। আমরা সংহতির জন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”
চবি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের শাখা সভাপতি অন্বেষ চাকমা জানান, স্থানীয় সূত্রে ইউপিডিএফ-এর সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা জানা যাচ্ছে। অপহরণের পর অভিভাবকদের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ এসেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা জানিয়েছেন, “অপহৃতদের উদ্ধারই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় আছে। উদ্ধারের পর যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
-পার্বত্য সময়


