পার্বত্য চট্টগ্রামে নানারকম বঞ্চনার দোহাই দিয়ে তরুণদের মধ্যে যুদ্ধের মনোভাব সৃষ্টি করতে উঠেপড়ে লেগেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংসহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)। বিভিন্ন সভা সেমিনার ছাড়াও ইদানীংকালে তাদের প্রকাশিত লেখাগুলোতেও এ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
সোমবার (১১ নভেম্বর) জেএসএস'র মুখপাত্র হিল ভয়েস-এ প্রকাশিত 'পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি: তরুণদের করণীয়' শীর্ষক নিবন্ধে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি বিস্ফোরন্মুখ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবার পরিবেশ জন্ম হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। এজন্য উপজাতীয় তরুণদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন এ সংগঠনটি। 
এ নিবন্ধে বর্তমান সরকারকে প্রতি বিষোধগার করে বলা হয়, দেশের শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশ্নে হাকিম নড়ে তবুও হুকুম না নড়ার মতোই। 
তাদের ভাষায়,  অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে সমতার দৃষ্টিতে দেখেন না বলে পরিলক্ষিত হয়। এই সরকার রাষ্ট্র সংস্কারে ব্যস্ত, অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশ্নে অতি উদাসীন। 
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমালোচনা করা হয় ওই লেখায়। জেএসএস প্রশ্ন করে, পাহাড়ের ক্ষেত্রে ‘বৈষম্য বিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন’ জুম্ম জনগণকে কি আদৌ অধিকার ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হবে? 
তাদের দাবি, বৈষম্য বিরোধী  এই আন্দোলনের অজুহাতে পাহাড়ে আবারো ‘ডিভাইড এন্ড রুল’ পলিসি শাসক শ্রেণি তৈরি করছে, যা ‘বৈষম্য বিরোধী পাহাড়ী ছাত্র আন্দোলন’ সমন্বয়কেরাও এর দায় এড়াতে পারেন না।
জেএসএস বলে, বৈষম্য বিরোধী পাহাড়ী ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুম্মদের অস্তিত্ব ও স্বার্থ রক্ষা হবে না।
এ নিবন্ধে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ভয়াবহতায় রূপ নিচ্ছে। আদর্শিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি এখানকার বিজাতীয় শাসন আরও উদ্বেগজনক ও হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ২৬ বছরেও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নকে প্রাধান্য না দিয়ে পাঁচ দশক ধরে সেটেলার বাঙালিদের সংখ্যানুপাত এবং জাতিগত বিভাজন নীতিকে উৎসাহ দিয়েছে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী। এতে করে পাহাড়ে অশান্তি অত্যাধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। 
প্রকাশিত এ নিবন্ধে পিসিজেএসএস'র প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র লারমার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। তাদের মতে, সামন্তীয় যাঁতাকলে আষ্টে-পৃষ্টে বাঁধা পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগণকে প্রথম মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তরুণ এম এন লারমা। পাহাড়ের ১৪ জাতিগোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে জুম্ম জাতীয়তার ভিত্তিতে এক হয়ে অনাগত শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানানো হয়। 
শেষাংশে মানবেন্দ্র লারমার জুম্ম জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তরুণদের জুম্ম জাতিকে মুক্ত করার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন সভা সমাবেশে নানারকম হিংসাত্মক ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচার করার মাধ্যমে তরুণদের রণংদেহী মনোভাব তৈরী করে যাচ্ছে জেএসএস নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মত অনুযায়ী, এ ধরণের বক্তব্য উপজাতি ও বাঙালিদের সহাবস্থানকে হুমকির মুখে ফেলে। তরুণ সমাজকে উগ্রতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। 
তিনি বলেন, দেখুন- তারা একই সাথে পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী অপসারণের দাবি করে। কিন্তু এ ধরণের হিংসা ছড়ালে প্রশাসন অবশ্যই আরও জোড়ালো পদক্ষেপ নিবে। শান্তির জন্য সেনাবাহিনী তাদের তৎপরতা বাড়াবে।

-পার্বত্য সময়