বান্দরবানের লামা উপজেলার গজালিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে জেএসএস (সন্তু) সশস্ত্র শাখার ৯ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজি ও অপহরণের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযান চালানো হয় বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের পূনর্বাসন চাকমা পাড়া এবং ইমানুয়েল ত্রিপুরা পাড়ায়। এই দুই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জেএসএস (সন্তু) সশস্ত্র সদস্যদের অবাধ বিচরণ ছিল বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এলাকার দুর্গমতা এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের অনুপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা গোপনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
অভিযানে আটক ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির লামা উপজেলার প্রধান চাঁদা কালেক্টর আনন্দ মোহন চাকমা (৭২)। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় এবং অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
অন্যান্য আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে- শান্তিরাম চাকমা (৩৩), পিতা: জোতিরাম ত্রিপুরা, চাটুই চাকমা (৩৫), পিতা: কেকেরা চাকমা, শান্তি রঞ্জন চাকমা (৩৫), পিতা: সুন্দরমনি চাকমা,  কলপোরঞ্জন চাকমা (৪৫), পিতা: দয়াল চন্দ্র চাকমা,  জোতিবিকাশ চাকমা (২৮), পিতা: দোয়াল চন্দ্র চাকমা,  পাখিরাম ত্রিপুরা (৩১), পিতা: পাইল ত্রিপুরা, ছোটিয়া ত্রিপুরা (৬০), পিতা: টয়চন্দ্র ত্রিপুরা, জুয়েল ত্রিপুরা (২৬), পিতা: ছোটিজন ত্রিপুরা।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির মধ্যে রয়েছে-৪টি গাদা বন্দুক, ১টি সেমি-অটো রাইফেল, ২টি বন্দুকের ব্যারেল, ৩টি ছুরি, ইউনিফর্মের অংশবিশেষ, ২ জোড়া বুট, বৈদ্যুতিক তার, একটি ট্যাবলেট (টোল আদায়ের কাজে ব্যবহৃত), আনন্দ মোহন চাকমার পাসপোর্ট ও দুটি মোবাইল ফোন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটককৃতরা জেএসএস (সন্তু) এর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়িয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আনন্দ মোহন চাকমা সরাসরি অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন এবং সংগঠনের অন্যতম সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবেও পরিচিত।

এই অভিযানে পাহাড়ের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।