বান্দরবানের রাজবিলায় পাহাড়ি দুটি সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস–সন্তু) ও মগ ন্যাশনাল পার্টির (এমএনপি) সশস্ত্র শাখা মগ বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে জেএসএসের সাবেক এক নেতা ও মগ বাহিনীর এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে রাজবিলা ইউনিয়নের থংঝমা পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেএসএসের সাবেক নেতা নিসাঅং মারমা নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে মগ বাহিনীর সদস্য বাসিংমং মারমার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে হামলা চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও গোলাগুলি শুরু হয়। আত্মরক্ষার্থে পালানোর সময় নিসাঅং মারমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তিনি গুরুতর আহত হন। অপরদিকে, গোলাগুলির সময় মগ বাহিনীর সদস্য বাসিংমং মারমাও গুলিবিদ্ধ হন।

আহত দুজনকে উদ্ধার করে রাজবিলা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

রাজবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যঅংপ্রু মারমা জানান, ভোরের দিকে নিসাঅং মারমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এমএনপির এক সদস্য নিজেদের গুলিতেই আহত হয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) বান্দরবান জেলা কমিটির এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিসাঅং মারমা একসময় রাজবিলা ইউনিয়ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি প্রায় এক দশক ধরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

রাজবিলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এনামুল হক জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজ বলেন, গোলাগুলির ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।