আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)। বহুল আলোচিত রাঙামাটি (২৯৯) ও বান্দরবান (৩০০) আসনে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর গুঞ্জন থাকলেও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বশেষ সভায় নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে বলা হয়- পিসিজেএসএসের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি বলেন, নিজেদের প্রার্থী দিয়ে কিংবা কাউকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে অধিকাংশ মতামত এসেছে সরাসরি প্রার্থী না দেওয়ার পক্ষে। চূড়ান্তভাবে সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দলীয় প্রার্থীকে পিসিজেএসএস সমর্থন দেবে কি না- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সজীব চাকমা বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে কাউকে সমর্থন জানানো হতে পারে, তবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সংসদীয় আসনগুলোতে নির্বাচন করার বিষয়ে নেতাকর্মীদের একাংশ আগ্রহ প্রকাশ করলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ নিয়ে দীর্ঘদিন দোদুল্যমান ছিল। পরে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতামত যাচাই করা হয়। অধিকাংশই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে মত দেন।

সমর্থকদের যুক্তি ছিল, পার্বত্য অঞ্চলে অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক নয় এবং সমতলের মতো এখানে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা কঠিন। এসব শঙ্কা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

উল্লেখ্য, গত ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাঙামাটিতে আয়োজিত এক সমাবেশে পিসিজেএসএসের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর থেকে রাঙামাটি আসনে তার পক্ষে দলীয় পর্যায়ে সীমিত প্রচারণাও শুরু হয়। একইভাবে বান্দরবান আসনে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কে এস মং মারমাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘিরে আলোচনা চলছিল। তবে খাগড়াছড়ি আসনে পিসিজেএসএসের পক্ষ থেকে কোনো প্রার্থী নিয়ে প্রচারণা দেখা যায়নি।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ফলে এখন এসব আলোচনা ও প্রচারণার অবসান ঘটেছে।

প্রসঙ্গত, পিসিজেএসএস ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাঙামাটি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করে ঊষাতন তালুকদারকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিল। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তাকে পরাজিত করা হয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে দলটি।