পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারও সশস্ত্র সংগ্রামের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সাবেক গেরিলা নেতা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এক জনসভায় জেএসএস নেতা কে এস মং সরকার এই হুঁশিয়ারি দেন।
‘আদিবাসী ফোরাম’ কর্তৃক আয়োজিত এই সমাবেশে পাঠ্যবইয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দ পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। জেএসএস নেতা কে এস মং মারমা তার বক্তব্যে বলেন, ‘‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার যদি আর টালবাহানা করে, তাহলে জনসংহতি সমিতি আগের মতো সশস্ত্র পথে ফিরে যেতে বাধ্য হবে।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষ নব্বইয়ের গণআন্দোলন ভুলে গেছে। একইভাবে চব্বিশের চেতনাও ভুলে যাবে, যদি সরকার বহুভাষা, বহুধর্ম ও বহুজাতির সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে ব্যর্থ হয়।’’
এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হোসেন রুবেল, দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি বিচিত্রা তির্কী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহা তানজীম, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, আদিবাসী যুব ফোরামের সহসভাপতি টনি চিরান, আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলিক মৃ প্রমুখ।
এছাড়াও এএলআরডি-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইগ্নাসিয়াস হেমন্ত কোড়াইয়া, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, আদিবাসী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক গজেন্দ্রনাথ মাহাতো প্রমুখ সমাবেশে অংশ নেন।
জেএসএস-এর এই সতর্কবার্তা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচনা ও সংকটের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
-পার্বত্য সময়


