বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস চলবে না। দেশের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং এই ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের একটাই পরিচয়—‘বাংলাদেশি’।
শনিবার (২৪ মে) বিকেলে রাজধানীর মহাখালীর এসকেএস টাওয়ারে স্বাধীনতা সুরক্ষা পরিষদ আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের উগ্রপন্থি সংগঠনগুলোর স্বায়ত্তশাসনের দাবি, বিরাজমান সমস্যা ও সমাধানের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আকবর।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, “বিচ্ছিন্নতায় নয়, জাতীয় সংযুক্তিতেই সমাধান খুঁজতে হবে। পাহাড়িদেরও এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম একটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, যা উত্তরে ভারতের অংশবিশেষ ও চীন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে মিয়ানমারের সঙ্গে সংযুক্ত। এ কারণে অঞ্চলটিকে একটি ‘স্ট্রাটেজিক ইউনিট’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু চক্র পার্বত্য চট্টগ্রামে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, যাদের দৃষ্টি আগেও দেশের সীমান্ত এলাকার দিকে ছিল। “আমাদের সেনাবাহিনী জীবন দিয়ে এই অঞ্চলকে রক্ষা করেছে,” বলেন কাদের গনি।
১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তিকে তিনি ‘বিতর্কিত’, ‘সংবিধানবিরোধী’ এবং ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে সমতল অঞ্চলের বাঙালিদের মৌলিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তির ধারায় পাহাড়িরা সমতলে জমি কিনে বসবাস করতে পারলেও সমতলের নাগরিকরা পাহাড়ে জমি কিনে স্থায়ী হতে পারেন না— যা সংবিধানের ৩৬ এবং ২৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, “মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয়। শান্তিচুক্তিতে এমন কিছু ধারা রয়েছে যা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করে।”
তবে তিনি পাহাড়িদের দুঃখ-কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষ কষ্টে আছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির মালিকানা ও উন্নয়ন কর্মসূচি নিশ্চিত করতে হবে।”
সেনা প্রত্যাহার দাবিকে তিনি অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে বলেন, “চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অপহরণ বন্ধ হলেই সেনাবাহিনী স্বাভাবিকভাবে ব্যারাকে ফিরে যাবে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত না করে সেনা প্রত্যাহার আত্মঘাতী হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মুস্তাফিজুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মতিউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শাহদাত হোসেন, মেজর (অব.) সারোয়ার হোসেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হাফিজুর রহমান বীরপ্রতীক ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফেরদৌস আজিজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোস্তফা আল ইহযায।
-পার্বত্য সময়


