টানা বৃষ্টিপাতে রাঙামাটির কাউখালী-ঘিলাছড়ি সংযোগ সড়ক মাটি ধসে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। এতে দুটি উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রোববার (১ জুন) সকাল ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর আগে শনিবার (৩১ মে) গভীর রাত থেকে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল শুরু হয়।
সড়ক ধসে যাওয়ায় কাউখালী ও ঘিলাছড়ি এলাকার সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় জরুরি প্রয়োজনে লোকজনকে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
এদিকে কাউখালী খাল ও ইছামতী নদীর পানি বেড়ে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। প্রবল বৃষ্টিতে কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।
অন্যদিকে কাপ্তাই উপজেলার ঘাগড়া-বড়ইছড়ি সড়কের মূরালী পাড়া এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখন পর্যন্ত ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে জানান, "ঘাগড়া-বড়ইছড়ি সড়কের মূরালী পাড়ায় পাহাড় ধস হয়েছে, তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখা হয়েছে। ধসের মাটি যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার করা হবে।"
রোববার সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মগাছড়ি এলাকায় গাছ পড়ে যান চলাচল আধা ঘণ্টার জন্য বন্ধ ছিল। পরে গাছ সরিয়ে সড়ক আবার খুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুনে প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মানিকছড়ি শালবাগান অংশে প্রায় ১০০ মিটার রাস্তা ধসে পড়েছিল। এতে টানা ৯ দিন রাঙামাটি সড়কপথে পুরো দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় প্রতিবছরই এমন ধস ও প্লাবনের ঘটনা ঘটে। তারা সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে পাহাড় ধস রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
-পার্বত্য সময়


