খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার লামকুপাড়া গ্রামে সরকারি ভ্যাকসিন দেওয়ার পর ১৬টি ছাগল ও ৪টি গরুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও অর্ধশতাধিক গবাদিপশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় খামারিরা ও পশুপালকরা। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ এপ্রিল রামগড় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নির্দেশে ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রুবায়েতুল ইসলামের সহকারী জামাল উদ্দিন ও রমজান গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে গরু-ছাগলকে ভ্যাকসিন দেন। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার একদিনের মধ্যেই পশুগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে একে একে মারা যেতে শুরু করে।
ভুক্তভোগী খামারি লুৎফর রহমান জানান, “ভ্যাকসিন দেওয়ার দুই দিনের মাথায় আমার তিনটি ছাগল ও দুটি গরু মারা গেছে। আরও অন্তত ১৫টি ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়েছে। যাদের পশুতে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তাদের সবারই একই অভিজ্ঞতা।”
স্থানীয় গৃহিণী সায়েরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ মানুষ। সংসারের সব ভরসা এই গরু-ছাগলগুলো। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর তিনটি ছাগল মারা গেছে, আরও তিনটি অসুস্থ হয়ে আছে। এখন আমরা কীভাবে চলব?”
ওবায়দুল হক, আবুল কাশেম, আবদুল করিম, শান্তনু দেবী ও চিকনি ত্রিপুরাসহ আরও অনেকেই একই অভিযোগ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা মঙ্গলবার সকালে রামগড় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
ভ্যাকসিন বিতরণের দায়িত্বে থাকা রামগড় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রুবায়েতুল ইসলাম বলেন, “কিছু ছাগল মারা যাওয়ার খবর সত্য, তবে গরু মারা যাওয়ার খবর গুজব। প্রয়োগকৃত ভ্যাকসিনের মেয়াদ ঠিক ছিল। তবুও মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমাদের কাছে ক্ষতিপূরণের কোনো সুযোগ নেই।”
এদিকে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতা আফরিন জানান, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বলছেন, এ ঘটনায় তাদের অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
-পার্বত্য সময়


