খাগড়াছড়িতে মাত্র ১২০ টাকায় কোনো ঘুষ বা তদবির ছাড়াই ৯ জন প্রার্থী পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৭ জনই দিনমজুর ও অটোচালকের মতো পেশায় যুক্ত ছিলেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা প্রমাণ করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বুধবার (১৪ মে) বিকেলে মৌখিক পরীক্ষা শেষে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল।
তিনি নবাগতদের উদ্দেশে বলেন, "শারীরিক ও মেধার যোগ্যতার ভিত্তিতেই আপনারা এ জায়গায় এসেছেন। সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হবে। তবেই আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারব।"
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৩১ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে ৯ জন নির্বাচিত হন এবং ৩ জন অপেক্ষমাণ তালিকায় স্থান পান। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে অধিকাংশের পেশা ছিল দিনমজুরি ও অটোরিকশা চালনা।
নতুন চাকরি পাওয়া এক যুবক বলেন, "আমার বাবার দিনমজুরির টাকায় আমি বড় হয়েছি। এত বড় স্বপ্ন পূরণ হবে কোনোদিন ভাবিনি।" আরেকজন বলেন, “চাকরি পাওয়ার পর আমার মা কাঁদতে কাঁদতে সিজদায় পড়ে যান। আমি আজ গর্বিত।”
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ৯টি পদে সাড়ে চার শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। স্থানীয় মহলে এই স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং অন্যান্য জেলাতেও এমন উদাহরণ অনুসরণের দাবি উঠেছে।

-পার্বত্য সময়