চার দিনের টানটান উত্তেজনা ও অবরোধ কর্মসূচির পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফিরছে খাগড়াছড়ি। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ায় বুধবার সকাল থেকে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। শহরের দোকানপাটও ধীরে ধীরে খুলছে।

দূরপাল্লার কিছু গাড়ি চলাচল করলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপস্থিতি বেড়েছে। শহর ও শহরতলীতে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল দেখা গেছে।

ইউপিডিএফের ‘জুম্ম ছাত্র–জনতা’র ব্যানারে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ ডেকেছিল। তবে মঙ্গলবার রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ স্থগিত করা হয়েছে।

যদিও অবরোধ স্থগিত হয়েছে, তবুও জেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে। খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় এখনো বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। সেনা টহলের পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।

খাগড়াছড়ি ও গুইমারার সাম্প্রতিক সহিংসতার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে মেডিকেল পরীক্ষায় কিশোরীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সিভিল সার্জন ডা. ছাবের আহম্মেদ এ বিষয়ে নিশ্চিত করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, “রিপোর্টটি পুলিশের মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”

অবরোধ চলাকালে গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় সহিংসতায় তিনজন নিহত ও অনেকে আহত হন। গুইমারার রামসু বাজার এলাকায় প্রায় অর্ধশত দোকানপাট, বসতবাড়ি ও অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।