খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার পাইপগান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে ইউপিডিএফ (প্রসীত) জড়িত।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের সাজেক সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পরিত্যক্ত মাঠ থেকে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকারিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাটি তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু আঞ্চলিক সংগঠন সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, এসব সংগঠন অস্ত্রের মহড়া দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
সম্প্রতি, চাঁদা না পেয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তত ১৫টি মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়—এর আগেও বিভিন্ন সময় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, যা এলাকাটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
বিশেষ করে সাজেক অঞ্চলে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং যারা এসব অস্ত্র ফেলে গেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালানো জরুরি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পার্বত্য এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
-পার্বত্য সময়


