বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের রাঙ্গাঝিরি এলাকা থেকে অপহরণের তিন দিন পর সাত বছর বয়সী শিশু বাপ্পীকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে। সৌদি প্রবাসী সাইফুল ইসলামের বাড়িতে হঠাৎ হামলা চালায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। তারা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার শিশু পুত্র বাপ্পীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টেনে-হিঁচড়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। শিশুটির মা শাহিদা বেগম সেসময় ঘরের ভেতরেই ছিলেন। চোখের সামনে সন্তানকে নিয়ে যেতে দেখলেও আতঙ্কে কিছুই করতে পারেননি তিনি।
পরদিন ভিন্ন ভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে অপহরণকারীরা ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং তা না দিলে বাপ্পীকে হত্যার হুমকি দেয়। এতে পরিবার ও আশপাশের এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয় জেলা পুলিশ।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানা ও কাগজীখোলা পুলিশ ফাঁড়ির একাধিক দল অভিযানে নামে। অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্তে শুরু হয় নজরদারি এবং পাহাড়ি এলাকায় অভিযান।
অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে পুলিশ অপহরণকারী দলের সদস্য রুহুল আমিন (২০)–কে গ্রেপ্তার করে। সে কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের বৌঘাটা গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ একই রাতে অপহৃত বাপ্পীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ চেয়ে হুমকির অভিযোগে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ও মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট আবদুল করিম বলেন, "ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি। অপরাধী যেখানেই থাকুক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের অবস্থান এ বিষয়ে কঠোর।"

-পার্বত্য সময়