চট্টগ্রামে আটক সেই বিশেষ সামরিক ইউনিফর্মগুলো তৈরির জন্য ব্যবহৃত সূতা সরবরাহের অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরীর একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত কারখানাটি আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার পারিবারিক মালিকানাধীন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বলে জানা গেছে।
সোমবার (২ জুন) সন্ধ্যায় নগরীর চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকায় অবস্থিত ওয়েল ফেব্রিক্স লিমিটেড কারখানায় এ অভিযান চালায় পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটি ওয়েল গ্রুপ এর অংশ, যা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুচ ছালাম এর মালিকানাধীন।
আবদুচ ছালাম ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও–বোয়ালখালী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ মনোনয়ন না পেলেও তিনি দলীয়ভাবে সক্রিয় ছিলেন। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
এর আগে ১৭ মে বায়েজিদ থানার নয়াহাট এলাকার রিংভো অ্যাপারেলস নামক একটি কারখানা থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ ২০ হাজার ৩০০টি ইউনিফর্ম জব্দ করে, যেগুলো কেএনএফ-এর জন্য তৈরি করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়। যদিও পরবর্তীতে ধারণা করা হয় ওই পোশাকগুলো অন্যকোনো আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হতে পারে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে নিশ্চিত করছে একটি গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হয় তিনজন, যাদের মধ্যে সাহেদুল ইসলাম নামের একজন কারখানার মালিক। বাকি দু’জন- গোলাম আজম ও নিয়াজ হায়দার অর্ডার সংগ্রহকারী।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তারা মংহলাসিন মারমা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই কোটি টাকার বিনিময়ে কেএনএফ ইউনিফর্ম তৈরির অর্ডার নিয়েছিলেন এবং মে মাসে তা সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।
পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযুক্তরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে এবং এটি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের শামিল। এদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্ন, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন, এবং চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর পর ২৬ ও ২৮ মে দুটি পৃথক অভিযানে বায়েজিদ ও পাহাড়তলী থানার অধীনে আরও প্রায় ২৬ হাজারের বেশি ইউনিফর্ম জব্দ করা হয় এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে কেএনএফ-এর জন্য তৈরি পোশাক ও সূতা সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় শহরাঞ্চলের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে পাহাড়ের বিদ্রোহী সংগঠনের যোগসূত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
-পার্বত্য সময়


