খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার কলেজ টিলায় অবস্থিত গ্রামীণ ও রবি মোবাইল টাওয়ার শনিবার (২২ মার্চ) রাতের অগ্নিকাণ্ড থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। স্থানীয়দের সন্দেহ, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে। সেনাবাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
শনিবার ইফতারের পর মুসল্লিরা তারাবির নামাজ আদায় করছিলেন, তখনই হঠাৎ খবর আসে— কলেজ টিলায় আগুন লেগেছে। ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখা যায়, টাওয়ারের পাশে ঝোপ-জঙ্গল থেকে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং জেনারেটরের আশপাশে তা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুরো টাওয়ার পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারত। আগুনের ভয়াবহতা দেখে তাদের সন্দেহ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাগানো হতে পারে।
ঘটনার খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীছড়ি জোনের একটি চৌকশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেয়। লক্ষ্মীছড়ি জোন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে দিকনির্দেশনা দেন। ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি ও সেনাসদস্যদের প্রচেষ্টায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন নাশকতার ঘটনা ঘটছে। এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও কিছুদিন আগে ইউপিডিএফ (প্রসীত) চাঁদা না পেয়ে পার্বত্য অঞ্চলের অনেক মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এসময় তারা টাওয়ারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও চুরি করে নিয়ে যায়। এবারের ঘটনাটিও সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন— টাওয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাশে কীভাবে আগুন লাগল? নাশকতার আশঙ্কা থাকলে এর পেছনে কারা? সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী কি যথাযথ ব্যবস্থা নেবে? নাকি আগের মতোই এসব ঘটনা আড়ালে থেকে যাবে? প্রশাসনের কাছে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
লক্ষ্মীছড়ি ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মোঃ সালেহ আহমেদ বলেন, “আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।”
-পার্বত্য সময়


