টানা বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙামাটি জেলায় পাহাড় ধস, জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্নতাসহ ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (৩০ মে) রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
শনিবার (৩১ মে) সকাল থেকে রাঙামাটি সদর উপজেলার সাপছড়ি ও কলাবাগান এলাকায় সড়কের ওপর পাহাড়ি মাটি ও গাছপালা পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মীরা দ্রুত মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার রাস্তাঘাট, স্কুল, বসতঘর ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে জুরাছড়ি, বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নে বসতঘর ও ধান-শাকসবজির জমি পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা।
তিনি বলেন, "টানা বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ও ফসল তলিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পাঁচদিন ধরে বিচ্ছিন্ন থাকায় জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত।"
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। রাঙামাটি পৌর এলাকায় ইতোমধ্যে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৪১ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা গণমাধ্যমকে জানান, পাহাড়ধসের আশঙ্কায় লোকজনকে লোকনাথ মন্দির ও রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “লোকনাথ মন্দির আশ্রয়কেন্দ্রে ২০টি পরিবারের ৮২ জন এবং রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০টি পরিবারের ৪৫ জন আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য রাত ও আগামীকাল সকালের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম হিসেবে স্যালাইন, প্যারাসিটামল ও ফ্লাজিল সরবরাহ দেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ জানান, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পাহাড়ধসসহ বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক ও রেসকিউ টিম মাঠে কাজ করছে।”
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তারা দ্রুত বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
-পার্বত্য সময়


