খাগড়াছড়ির লারমা স্কয়ারে আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে পুনরায় অগ্নিকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। 
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে বোয়ালখালী বাজারের তৃপ্তি হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাকের হোসেন জানান, খবর পেয়ে খাগড়াছড়ি, লংগদু ও দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের সদস্য, দীঘিনালা থানা পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে কাপড়ের দোকান, হার্ডওয়্যার স্টোর, মুদি দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বারবার লারমা স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে? এর পেছনে কোনো সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা। এদের একাংশ জেএসএস,  ইউপিডিএফ'র মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পাহাড়ি-বাঙালি সহিংসতায় লারমা স্কয়ারে দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে শতাধিক পরিবারকে নিঃস্ব করে। এরপর গত ৭ মার্চ ফের অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার ১৮ দিনের মাথায় আবারও আগুনের ঘটনা ঘটল। একের পর এক এই আগুন নিছক দুর্ঘটনা, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাশকতা—এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস।

-পার্বত্য সময়